লেখক পিন্টু পোহান : অজয় পাল

 লেখক ও কবি পিন্টু পোহান.../ অজয় পাল

লেখক ও কবি পিন্টু পোহান। জন্ম: ১৯৭৮, কলকাতার এক নিম্নবিত্ত পরিবারে। পিতা পূর্ণচন্দ্র পোহান। মা উজ্জ্বলা দেবী। পাঁচ ভাইবোনের মধ‍্যে কনিষ্ঠ। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু জয়শ্রী হরিচরণ বিদ‍্যাপীঠে, পরে বড়িশা শশীভূষণ জনকল্যাণ বিদ‍্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক ও 

সোদপুর শ্রীমন্ত বিদ‍্যাপীঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তাঁকে কলেজে ভর্তি হয়েও বিভিন্ন কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বন্ধ রেখে জীবন ও জীবিকার পথের সন্ধানে বের হতে হয়।

দিনের পর দিন পথ হাতড়ে বেরিয়ে শেষে নিরাশ হয়ে বেহালার মদনমোহন তলায় ফুটপাতে একটি অস্থায়ী দোকান খুলে শুরু করেন নতুন করে জীবন সংগ্রাম।

পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে গল্প-কবিতা পড়ার নেশা  ছিল সেই ছেলেবেলা থেকেই। পাশাপাশি ছিল নিজের লেখার প্রচেষ্টা। দারিদ্রসীমার নিচে বাসকরা একটি পরিবারের ছেলে, যার জানার আগ্রহ ছিল অসীম, পাশে সেভাবে কাউকে না পেলেও পেয়েছিল স্থানীয় একটি গ্রন্থাগার। পেয়েছিল দু'একটি কালোয়ারের দোকান, যেখানে কেজি দরে বই পাওয়া যায়। সেগুলোর সাহায্য সম্বল করেই  এগিয়ে ছিল তার সাহিত্য সাধনা। ছেলেবেলাতেই লক্ষ‍্য স্থির হয়ে গিয়েছিল- সে শুধু সাহিত্যচর্চাই করবে।

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর বাড়ির আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেলে সাহিত্য চর্চায় যে ভাটা এসেছিল  জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য ফুটপাথে  ছোট্ট দোকান দেওয়ার পর তাতে ঢেউ উঠল এবার তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমে। জীবন ও সাহিত্য চর্চা বাঁচাতে  কঠোর পরিশ্রমকেই তিনি মেনে নিলেন ভাগ্যলিপি বলে। সমস্ত বাধাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দোকানে বসেই হাতে তুলে নেন বই আর কাগজ-কলম। সময়টা ১৯৯৯―২০০০।

তিনি চিনে নিলেন আর এক অসহিষ্ণু পৃথিবীকে। চিনে নিলেন পরিচিত বহু মানুষকে। যারা মনে করে, শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত গরিব খেটেখাওয়া ও জীবনের সাধারণ চাহিদা পূরণ করতে না পারা মানুষেরা সাহিত‍্যের মতো উচ্চাঙ্গের শিল্প সাধনা করতে অক্ষম। 

এরা সাহিত্য সাধনা করে না। লোক হাসায়। সুতরাং এদের সঙ্গে অমানবিক যেমন খুশি ব‍্যবহার করা যায়। 


শুরু হয় হাজারো মানুষের ব‍্যঙ্গ-বিদ্রুপ। 

হাজারো মানুষের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপকে উপেক্ষা করে পথের পাশে তাঁর সেই ছোট্ট দোকানে বসে আজও কাজের ফাঁকে ফাঁকেই চলে তাঁর সাহিত্যচর্চা। তিনি বন্ধুদের নিয়ে

 "এবার বাঁধনছেঁড়া" নামের একটি পত্রিকাও বের করতেন এক সময়। আর্থিক কারণে সেই পত্রিকা কয়েক বছর চলার পর বন্ধ হয়ে যায়।

আজ তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চার। পারুলমাসির ছাগলছানা, নোটন নোটন পায়রাগুলি, ইলিশখেকো ভূত ও কচুরিপানার ভেলা।

আজ তাঁর নাম সাহিত্যমহলে পরিচিত শুধুমাত্র প্রকাশিত লেখার সংখ্যার বিচারে নয়, গুণগত মানের বিচারে।  

তিনি কোনও বাধাকেই বাধা বলে মেনে নেননি। কখনো ভাবেননি ভিনগ্রহ থেকে কোনও দেবদূত এসে তাঁর হাত ধরে টেনে তুলবেন। সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেই তিনি দীর্ঘ ২২ বছর সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন।

অদম্য জীবনীশক্তির অধিকারী সেই দোকানে বসেই পড়াশুনো করে প্রথমে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক হন পরে মাস্টার ডিগ্রীও অর্জন করেন

Comments